ব্রাশফায়ারে নিহত ৬ - Bangladeshi News

Top News Site In Bangladesh

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 18 August 2018

ব্রাশফায়ারে নিহত ৬


আবারও রক্তাক্ত পাহাড়। এবার খাগড়াছড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিপক্ষের ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফের (প্রসীত) ৩ নেতাসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে স্বনির্ভর বাজারে একটি সমাবেশে অংশ নিতে ইউপিডিএফ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ জন্য জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করেছে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ।

নিহতরা হলেন- ইউপিডিএফ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি তপন চাকমা, সহসভাপতি এলটন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ চামকা, মহালছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী ও উত্তর খবং পুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জীতায়ন চাকমা, একই গ্রামের কান্দারা চাকমার ছেলে রুপম চাকমা ও প্রকৌশলী ধিরাজ চাকমা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শিববাড়ী এলাকার পূর্বনির্ধারিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ইউপিডিএফ নেতাকর্মীরা খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে অতর্কিত হামলা চালায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। প্রথমে তারা বাজারের প্রবেশমুখে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে তিনজন সাধারণ মানুষ নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে বাজারে ঢুকে ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনেই পিসিপি সভাপতি তপনসহ তিনজনকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে হামলাকারীরা। এখানেও অনেকে আহত হন। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময়ও বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা জীবন বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। ঘটনার পরপরই স্বনির্ভর বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

আহতরা হলেন- পিসিপি খাগড়াছড়ি সদর থানা শাখার সভাপতি সোহেল চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্র দ্বিতন চাকমা, বেলতলিপাড়ার বাসিন্দা ফেরেস্টার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সদরের পশ্চিম নারাঙহিয়ে গ্রামের বাসিন্দা পদ্ম চাকমার ছেলে চিজি মনি চাকমা ও পথচারী সমর বিকাশ চাকমা।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা যুগান্তরকে বলেন, ৬ জনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা অপর তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত স্বাস্থ্য সহকারী জীতায়ন চাকমার স্ত্রী প্রভাতি চাকমা জানান, শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় বাজারে নাস্তা করতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। তিনি অভিযোগ করেন, স্বনির্ভর বাজার এলাকায় এত নিরাপত্তা থাকার পরও প্রকাশ্যে বাজারে কিভাবে এতজনকে খুন করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়?

গুলিবিদ্ধ পথচারী সমর বিকাশ চাকমার স্ত্রী বলেন, সকালে বাজার করতে যান তিনি। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তার ডান পায়ে লাগে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সংগঠক উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সভাপতি বিনয়ন চাকমা ও শ্রমজীবী ফ্রন্টের (ওয়ার্কার্স ফ্রন্ট) সভাপতি সচিব চাকমা। এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় তারা সংস্কারবাদী জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করেছেন। অবিলম্বে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাইকেল চাকমা মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, স্বনির্ভরের মতো একটি বাজারে প্রকাশ্যে হামলা করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মিঠুন চাকমাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে ঠিক একই কায়দায় সন্ত্রাসীরা আজকের এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বাকীর করে জেএসএসের (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় সহতথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত বলেন, এ হামলার ঘটনার সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই জড়িত নই। এরা অহেতুক আমাদের দোষারোপ করে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা হতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপর স্বনির্ভর এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।

ইউপিডিএফের বিক্ষোভ মিছিলে ফের হামলা : পানছড়ি সড়কের বিভিন্ন বাজার বন্ধ, চাঁদাবাজি ও সকালে স্বনির্ভর এলাকায় ব্রাশফায়ারে ৬ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইউপিডিএফ। মিছিলটি খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছানোর আগে পেরাছড়া এলাকায় গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় পালাতে গিয়ে শন কুমার চাকমা নামে এক সমর্থক মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- সোনা রঞ্জন চাকমা, ঊর্মি চাকমা ও মিনু চাকমা। এ ঘটনার জন্য জেএসএসকে (এমএন লারমা) দায়ী করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা। তবে এতে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে জেএসএস (এমএন লারমা)।

খাগড়াছড়িতে কাল আধাবেলা সড়ক অবরোধ : আগামীকাল সোমবার খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ করবে ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন সংগঠন। শনিবার সন্ধ্যায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার দফতর সম্পাদক সমর চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর ও পেরাছড়ায় ইউপিডিএফভুক্ত সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ওপর জেএসএস সংস্কারবাদী-নব্য মুখোশ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সোমবার খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।



from BdNews24 https://ift.tt/2OJssnE

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages