২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মপরিকল্পনা ৭ কর্মদিবসে বাস্তবায়ন - Bangladeshi News

Top News Site In Bangladesh

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 18 August 2018

২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মপরিকল্পনা ৭ কর্মদিবসে বাস্তবায়ন


রাজধানীসহ সারা দেশে যানজটমুক্ত নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ আজ রবিবারের মধ্যে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজই এসব পরিকল্পনা যাচাই-বাছাই করে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাত কর্মদিবস সময় বেঁধে দেওয়া হবে। বাস্তবায়নে ব্যর্থতায় দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি), বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ স্কাউট, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন এবং শিক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে। সচিব সাজ্জাদুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এসব কর্মপরিকল্পনা খতিয়ে দেখবে। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব কি না তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে আজকে (গতকাল শনিবার) সরেজমিনে সড়ক ঘুরে দেখার পর বৈঠক করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ কাল রবিবারের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের নেতৃত্বে কমিটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সব কার্যক্রম নজরদারি করবে।

মুখ্য সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপরিকল্পিত বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। অনেক সমস্যা সমাধানের পথে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যোগাযোগ খাতের সব সমস্যার সমাধানে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা দিতে আগামীকালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু পরিকল্পনায় বিশ্বাসী না। কতটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা চোখে দেখে বিশ্বাস করা হবে। কর্মপরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। বাস্তবায়নে সাত দিন সময় দেওয়া হবে।’

ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জবাবদিহি করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এর জন্য দায়ী থাকলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তাঁর নেতৃত্বে কাজ করছি।’

আশু বাস্তবায়নযোগ্য, স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি—এই চার ভাগে বিভক্ত করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনায় আশু ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা থেকেও কিছু পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার পাবে স্টপেজ ছাড়া যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ করা, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন যানবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে অংশগ্রহণ, প্রশিক্ষিত চালক, পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা করাসহ আরো বিষয়।

সড়ক পরিদর্শন

সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সদস্যরা রাজধানীর কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখেন। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে তাঁদের সড়ক পরিদর্শন শুরু হয়। তাঁরা আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ ও টিএসসি হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে যান। সেখানে কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউ লুপ নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নিয়েও তাঁরা আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকারীদের মধ্যে দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্ব্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান ও মহাপরিচালক-১ গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিল্লাল উপস্থিত ছিলেন।



from BdNews24 https://ift.tt/2OIa9iD

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages