যে গ্রামের নারী-পুরুষ কথা বলে ভিন্ন ভাষায় - Bangladeshi News

Top News Site In Bangladesh

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 28 August 2018

যে গ্রামের নারী-পুরুষ কথা বলে ভিন্ন ভাষায়

প্রতিটা শিশুই তার মায়ের কাছ থেকে কথা বলা শেখে। মা যা শেখায়, সন্তান তাই শেখে। কিন্তু নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপ্রধান একটি গ্রাম উবাঙে’র মেয়ে শিশুরাই মূলত মাকে অনুসরণ করে ভাষা শেখে। আর ছেলে শিশুরা শেখে বাবা-বড় ভাইদের শেখানো ভাষা। সেখানকার নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ভাষা প্রচলিত।

উবাঙ এর বাসিন্দাদের মতে, ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদের’ কারণেই নারী-পুরুষের ভাষার এই ভিন্নতা। তবে অধুনা ইংরেজি ভাষা সেখানে জনপ্রিয়তা লাভ করায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে নারী-পুরুষের ভাষার সেই ঐতিহ্য। শঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের ভাষার ঐতিহ্য টিকে থাকা নিয়ে।

উবাঙ-এ ভাষার পাশাপাশি নারী-পুরুষের পোশাকেও রয়েছে ভিন্ন বৈচিত্র্য। গ্রামের বাসিন্দা ইবাঙ তার দুই বাচ্চাকে ডাক দিয়ে একটি লাল আলু দেখিয়ে এর নাম বলতে বলেন। তার মেয়ে লাল আলুটিকে কোনো রকম ইতস্ততা ছাড়াই ‘ইরুই’ বলে উল্লেখ করে। অন্যদিকে ছেলে একই লাল আলুকে ‘ইতোঙ’ বলে উল্লেখ করে। এখানকার নতুন প্রজন্মও ভাষার এই ভিন্নতাকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। কিন্তু সামাজিক বাস্তবতার কারণে দিন দিন তা কঠিন হয়ে পড়ছে। নারীরা তাদের পোশাককে ‘এরিগা’ বললেও পুরুষরা বলে ‘এনকি’। নারী-পুরুষের জন্য সব শব্দই যে ভিন্ন এমন নয়, অনেক শব্দ রয়েছে যেগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের মুখেই শোভা পায়। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শব্দ নারী-পুরুষভেদে ভিন্ন। তবে এর হার কতটা সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ধারণা করা হয়, ঐতিহ্যগতভাবেই নারী-পুরুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শব্দ। এই সম্প্রদায়ের ভাষার ভিন্নতা নিয়ে কাজ করা গবেষক চি চি উনদি বলেন, এটা অনেকটাই পৃথক শব্দকোষের মতো। যদিও অনেক শব্দ রয়েছে যেগুলো নারী-পুরুষ উভয়ে ব্যবহার করেন। তবে যে ভাষাগুলো নারী-পুরুষের জন্য ভিন্ন সেগুলোর বানান, উচ্চারণ একটির থেকে অন্যটি একেবারেই ভিন্ন। তার মতে, এই ভিন্নতা ব্রিটিশ ইংরেজি থেকে আমেরিকান ইংরেজির থেকেও অনেক বেশি। তবে নারী-পুরুষের এই ভাষার ভিন্নতা পরস্পর খুব সহজেই বুঝতে পারেন।

ইবাঙ জানান, দশ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে শিশুরা তার মায়ের ভাষায় কথা বলে। কিন্তু ১০ বছর পার হয়ে গেলেই তাদের শিখতে হয় পুরুষের জন্য নির্ধারিত ভাষা। তবে ছেলে শিশুদের পুরুষ ভাষায় দক্ষ হওয়ার জন্য কেউ চাপ দেয় না। পুরুষ গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক জোরালো করতে নিজের থেকেই তারা শিখে নেয় পুরুষের জন্য নির্ধারিত ভাষা। ধরে নেওয়া হয়, ছেলে শিশুরা পুরুষ ভাষায় রপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে পরিপক্বতা লাভ করে। আর যারা তা পুরোপুরি রপ্ত করতে পারে না তাদের অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উবাঙ এর বাসিন্দারা নিজেদের এই ভাষার ভিন্নতা নিয়ে গর্ববোধ করেন। তাদের যুক্তি, ঈশ্বর (আদম আ.) এবং ইভ (হাওয়া আ.) কে পৃথকভাবে সৃষ্টি করেছেন। একইভাবে তাদের জন্য ভাষাও তাই ভিন্ন হওয়ার কথা।

উবাঙ এর নারী-পুরুষের ভাষার নেই কোনো লিখিত রূপ। তাই এই ভাষা কতদিন টিকে থাকবে সেটা অনেকটাই নির্ভর করবে সেখানকার নতুন প্রজন্মের ওপর। বর্তমানে অনেকেই উবাঙ এর ভাষার সঙ্গে ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলে। তাই এই ভাষার বিশুদ্ধতা এবং টিকে থাকা নিয়ে সংশয় জোরালো হচ্ছে। ২০১৬ সালে নাইজেরিয়ার ভাষাতত্ত্ব গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৫০০ এর কাছাকাছি ভাষা ছিল একসময়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে অনেক ভাষাই হারিয়ে গেছে। তাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে নাইজেরিয়ার অন্তত ৫০টি ভাষা।-বিবিসি



from BdNews24 https://ift.tt/2wtvEfL

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages