সাধারণ জনগণের মতো তারকারাও ঘর বাঁধে, আবার তাদের ঘর ভাঙেও। তবে সাধারণ জনগণের বিয়ে বা বিচ্ছেদ নিয়ে হয়তো কোনো শোরগোল হয় না, সেদিক থেকে একজন তারকার বিয়ে বা বিচ্ছেদ তার ভক্তদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। ছোটপর্দা ও বড়পর্দায় সবখানেই কমবেশি বিয়ে বিচ্ছেদ আছে, কেউ হয়তো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান, কিন্তু শেষরক্ষা হয় না। জানাচ্ছি আলোচিত কিছু বিয়ে বিচ্ছেদ নিয়ে।
তাহসান-মিথিলা
১১ বছরের মিষ্টি সম্পর্কের ইতি টেনে গত মে মাসে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন আলোচিত জুটি তাহসান-মিথিলা। এই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের এই বিবাহ-বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি ভক্তরাও। জানা যায়, পারস্পরিক বোঝাপড়া কমে যাওয়া ও দু’জনের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা আলাদা হওয়াকে নিয়েই ভাঙনের সিদ্ধান্ত।
আলমগীর-রুনা লায়লা
সিনেমা করতে গিয়ে একে অপরের প্রেমে পড়েন সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা ও নায়ক আলমগীর। কিন্তু আলমগীরের প্রথম স্ত্রী গীতিকার খোশনুর কোনো মতেই মেনে নিতে পারেননি এ সম্পর্ক। ডিভোর্স হয় তাদের মধ্যে। এরপরই আলমগীর শিল্পী রুনা লায়লাকে বিয়ে করেন।
আফসানা মিমি-গাজী রাকায়েত
একটি নাট্যদলে কাজ করতে গিয়ে আফসানা মিমির পরিচয় হয় নির্মাতা-অভিনেতা গাজী রাকায়েতের সঙ্গে। পরিচয়ের পর সখ্য। সময়ের ব্যবধানে সেই সখ্য গড়ায় প্রেমে। অতঃপর বিয়ে। কিন্তু বিয়েটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৯৬ সালে বিচ্ছেদ ঘটে আফসানা মিমি-গাজী রাকায়েতের।
পার্থ বড়ুয়া-শ্রাবন্তী
ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সোলসখ্যাত ব্যান্ড তারকা পার্থ বড়ুয়া এবং অভিনেত্রী শ্রাবন্তী। খুব বেশিদিন সেই প্রেম স্থায়ী হয়নি তাদের।
জেনি-অমিতাভ রেজা
বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজাকে বাবা-মায়ের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেন অভিনেত্রী জেনি। দীর্ঘ প্রেমের বিয়ে হলেও তাদের সংসার বেশিদিন টেকেনি।
রবি চৌধুরী-ডলি সায়ন্তনী
সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনীকে। কিন্তু তাদের ভালোবাসার সংসার শেষ পর্যন্ত টেকেনি
জয়া-ফয়সাল
অভিনেত্রী জয়া মডেল ফয়সালের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ধানমন্ডিতে প্রেমের সোপান হিসেবে একটি ফাস্টফুডের দোকান খুলতেও দেখা যায় তাদের। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ অজানা কিছু বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের ঝড় বইতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্বামী ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠান জয়া।
অপি করিম-উজ্জ্বল
অভিনেত্রী অপি করিম ২০০৭ সালে জাপান প্রবাসী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তাসির আহমেদকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই ছিলেন তারা। তারপর হঠাৎ তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ওঠে। অপির মিডিয়ায় ব্যস্ততা এবং মিডিয়ার লোকদের সঙ্গে মেলামেশাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তাসির। অন্যদিকে তাসিরের বিরুদ্ধেও আগে আরো একটি বিয়ে করাসহ নানা অভিযোগ তোলেন অপি। ফলে বছর না গড়াতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়।
হিল্লোল-তিন্নি
মিডিয়াপাড়ায় হিল্লোল-তিন্নির বিয়ে বেশ আলোচিত ছিল। এটাও ছিল ভালোবাসার বিয়ে। তিন্নি ধর্মান্তরিত হয়ে মা-বাবাকে ছেড়ে হিল্লোলের কাছে চলে আসেন। এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে এক কন্যা সন্তান। তবে এই তারকা দম্পতির সংসারও টেকেনি। তিন্নির প্রতি মাদক ও পরপুরুষের আসক্তির অভিযোগ তোলেন হিল্লোল। এ নিয়ে দু’জনই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা-অভিযোগ তোলেন।
মোনালিসা-ফাইয়াজ শরীফ
জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মোজেজা আশরাফ মোনালিসা ২০১২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফাইয়াজ শরীফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একই বছরের ম্যাজিক ডে ১২.১২.১২তে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে মোনালিসা ও ফাইয়াজের বিবাবহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের মাত্র দুই তিনদিন পরই শুরু হয় দু’জনের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি। শেষমেষ বিচ্ছেদেই রক্ষা।
হৃদয়-সুজানা
হৃদয় খান প্রায় চার বছর ধরে প্রেম করে গত বছরের ১ আগস্ট বিয়ে করেন সাত বছরের বড় সুজানাকে। পত্র-পত্রিকা আর টিভির সামনেও স্বগর্বে নিজের প্রেমের কথা, ভালোবাসার কথা বলেছেন হৃদয় খান। কিন্তু হৃদয় খানের অনেক সাধনার বিয়ে বছর ঘোরার আগেই ভাঙনের মুখে পড়েছে। কারণ, পারস্পরিক সমঝোতা না হওয়া। গত ৬ এপ্রিল বিচ্ছেদ হয় হৃদয়-সুজানার।
from BdNews24 https://ift.tt/2P72MBu
No comments:
Post a Comment