শেখ হাসিনাতেই আস্থা মোদির, তারেক-জামায়াতবিহীন বিএনপি চায় ভারত - Bangladeshi News

Top News Site In Bangladesh

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 2 September 2018

শেখ হাসিনাতেই আস্থা মোদির, তারেক-জামায়াতবিহীন বিএনপি চায় ভারত

শেখ হাসিনার প্রতিই আস্থা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিমসটেক সম্মেলন উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যে কর্মসূচি প্রণয়ন করে তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে তার বৈঠক ছিল না। মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সময় বের করতে বলার পর দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কূটনীতিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে, এই বৈঠকটি করতে আগ্রহী না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগ্রহেই শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের মধ্যে নানামুখী তৎপরতা রয়েছে। একটি অংশ অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক না গলানোর পক্ষে। এই অংশ মনে করে, বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কীভাবে এই নির্বাচন হবে, তা ঠিক করবে বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকার। অবশ্য এই অংশটি মনে করে নির্বাচন হওয়া উচিত অংশগ্রহণমূলক। নির্বাচনে যেন জন আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়।

ভারতের নীতি নির্ধারকদের আরেকটি অংশ মনে করে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনেও ভারতের উচিৎ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়া। তারা ২০১৪ তে বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারত যে অবস্থান নিয়েছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটানোর পক্ষে। এর পক্ষে তাদের প্রধান যুক্তি হলো শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান।

ভারতের নীতি নির্ধারকদের প্রভাবশালী এই অংশ মনে করেন, শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণেই ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কোণঠাসা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক যে নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে, তা শেখ হাসিনা সরকারের কারণে। এই মতের সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের থিংক ট্যাংকের একটি অংশ আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে একটি তৃতীয় শক্তির উত্থান চায়। এই অংশের মধ্যে রয়েছে ভারতের প্রভাবশালী সিভিল আমলারা। এদের সঙ্গে ড. মুহম্মদ ইউনূস এবং ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এদের যুক্তি হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের অতিমাত্রায় ভারতমুখী নীতি বাংলাদেশের জনগণকে ক্রমশ ভারত বিরোধী করে তুলছে। এটা ভারতের জন্য শুভ ফলদায়ক নয়। এরা মনে করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বনেতা হিসেবে উত্থানও ভারতের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। এছাড়াও ‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা কখনো ভারত ভুলবে না।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে তাঁরা ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে ড. কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে তৃতীয় শক্তির উত্থানের ক্ষেত্রে ভারতের এই অংশের প্রচ- সমর্থন আছে। এরাই শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকের প্রধান বিরোধিতাকারী ছিলেন। তবে, একটি ব্যাপারে ভারতের নীতি নির্ধারকরা একমত, তা হলো তারেক জিয়াকে নেতৃত্ব থেকে এবং জামায়াতকে জোট থেকে বাদ না দিলে বিএনপিকে তাঁরা কোনোরকম সমর্থন এবং সহায়তা দেবে না। ভারত বিএনপিকে এটাও জানিয়ে দিয়েছে যে, এই দু’টি পদক্ষেপ গ্রহণ করেই যেন তারা ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
তবে, কাঠমান্ডুতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে মোদি তাঁর সরকারের নানা মতের লোকজনকে একটা বার্তাই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন। আর সেটি হলো, শেখ হাসিনাতেই মোদির আস্থা। এই বৈঠক তাই যতটা না বাংলাদেশের চলমান রাজনীতির জন্য বার্তা, তাঁর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারতের নীতি নির্ধারকদের জন্য। লেখাটি বিডিটাইমস ৩৬৫ ডটকম থেকে নেয়া



from BdNews24 https://ift.tt/2PtJ42X

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages